বীরঙ্গনা চারুবালাকে মাথাগোজার ঠাই করে দিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার





মুস্তাফিজুর রহমান, টাইমসবাংলা.নেটঃ
স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও কেউ খোজ রাখেনি উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের রমেশবালার ডাঙ্গী গ্রামের দুর্গম চরের একটি খুপড়ি ঘরে বাসকরা শহীদ জায়া বীরঙ্গনা চারুবালা (৭৭) এর। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্থানী হায়েনারা চারুবালার স্বামী চন্দ্র চরন বিশ্বাস ও শিশু কন্য পার্বতিকে গুলি করে হত্যা করে এবং চারুবালার সমভ্রম নষ্ট করে বাড়িঘড় আগুনে পড়িয়ে দেয়।
সম্প্রতি জেলা শহর ফরিদপুরের শহীদস্মৃতি সংরক্ষন কমিটি নামক একটি সংগঠন খুঁজে বের করে চারুবালাকে।তারা চারুবালার পরিচয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট তুলে ধরেন।

বীরঙ্গনা চারুবালার খোজ পেয়ে কালবিলম্ব না করে ফরিদপুরের মানবতার ফেরিওয়ালা নামে পরিচিত মানবিক পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান চারুবালার খোজ খবর নেন এবং চরভদ্রাসন থানা পুলিশের মাধ্যমে চারুবালার বসত ভিটেয় চারচালা সেমি পাকা একটি টিনের ঘর তুলে দেন।এদিকে রবিবার বেলা সারে ১১টার দিকে দুর্গম চরে বীরঙ্গনা চারুবালার বসতবাড়ি পরিদর্শন ও সার্বিক খোজ নিতে যান ফরিদপুর-৪ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী(নিক্সন)।

পরে চারুবালার বসত ভিটেয় চরভদ্রাসন থানা পুলিশের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেন “আমি প্রায় সারে সাত বছর যাবত ভাঙ্গা,সদপুর ও চরভদ্রাসন থানার জনগনের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কিন্তু এই সারে সাত বছরে এই দুর্গম চরে বাসকরা বীরঙ্গনা চারুবালার সন্ধান আমার কাছে ছিল না। ফরিদপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান এই মুক্তিযোদ্ধা চারুবালার সন্ধান করে তার পাশে দাড়িয়েছেন। মুজিববর্ষে পুলিশ সুপারের নির্দেশে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ প্রত্যন্ত চরের একটি খুপরি ঘড়ে পরে থাকা বীরঙ্গনা চারুবালার মাথা গোজার ঠাই করে দিয়েছেন।পুলিশ এই করোনা মহামারির সময় তাদের নিজস্ব তহবিলের টাকা দিয়ে সুন্দর একটি ঘড় তৈরী করে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এর পরে হয়তো অনেক ধরনের সাহায্য সহযোগীতা এই চারুবালার জন্য আসবে কিন্তু আমি মনে করি পুলিশ এই বীরঙ্গনার খোজ নিয়ে সর্বপ্রথম তার পাশে দাড়িয়েছেন এবং বিষয়টি সকলের নজরে এনেছেন।এখন আমি ব্যাক্তি তহবিল থেকে কিছু দিব আমার মতন অনেকেই দিবে যেহেতু পুলিশের মাধ্যমে সর্বপ্রথম সাহায্য পেয়েছে এবং সকলের নজরে এসেছে তাই সকল কৃতিত্বের দাবীদার এই পুলিশ ভাইয়েরা।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের এমন মানবিক কাজের প্রসংশা করে তিন থানার জনগনের পক্ষথেকে ধন্যবাদ জানিয়ে এমপি আরও বলেন, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামানের মতন অফিসার বা কারো সন্তান যদি বাংলার ঘরে ঘরে থাকত তাহলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে জন্য দেশ স্বাধীন করে রেখে গেছেন আমরা সেই স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারতাম। আপরা হয়তোবা মনে করেন এমমি সবকিছু করে কিন্তু না রাজনিতীবিদদের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব না, তাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গরতে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান নিক্সন চৌধুরী।

এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান জানান, জেলা শহীদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির মাধ্যমে রীরঙ্গনা চারুবালার খবর পাই। আমরা আরো জানতে পারি, সে যেখানে বসবাস করছে, সেখানে আশে পাশের জমির মালিকরা তার সাথে ঝামেলা করছে এবং তার থাকার ঘরটিও নড়বড়ে। তাই মানবিক কারনেই জেলা পুলিশ তার পাশে দাড়িয়েছে।



সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হক ভোলা মাষ্টার,চরভদ্রাসন থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকারিয়া হোসেন,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ আনোয়ার আলী মোল্যা ও থানা যুবলীগের সভাপতি মোঃ মোরাদ হোসেন।সভা শেষে এমপি নিক্সন চৌধুরী জেলা পলিশের দেওয়া নির্মিত ওই ঘরটি আজ রোববার দুপুরে চারুবালার হাতে হস্তান্তর করার পাশাপশি সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী তার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে বীরঙ্গনা চারুবালাকে ১লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদান করেন।

এছাড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরকারি ফান্ড হতে ২০হাজার টাকা চারুবালাকে প্রদানের পাশাপাশি একটি মসজিদ সংস্কারের জন্য ২লক্ষ ও একটি মন্দির সংস্কারের জন্য ১লক্ষ টাকার অনুদান প্রদানের ঘোষনা দেন। জানা যায় শহীদ জায়া বীরাঙ্গনা বৃদ্ধা চারুবালা ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের পদ্মানদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল রমেশবালার ডাঙ্গী গ্রামে তার বসবাস।

মহান মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানী সেনাদের গুলিতে নিহত হন বীরাঙ্গনা চারুবালার স্বামী চন্দ্রকান্ত বিশ^াস ও সন্তান। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত স্বামীর স্মৃতি বুকে আগলে শহরের টেপাখোলা বাজারে শাকসব্জি বিক্রি করে কোনরকম দিনযাপন করেছেন এই বীরাঙ্গণা। সম্প্রতি জেলার শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির মাধ্যমে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান চারুবালার দৈন্যদশা জানতে পেরে এই বাড়ি তৈরি করে দেন।স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে চারুবালা বহুকষ্টে দুর্গম চরে তার ভাইয়ের বাড়িতে অনাহারে অর্ধাহারে একটি খুপরি ঘরে বসবাস করতেন। জেলা পুলিশের নিকট হতে থাকার ঘর ও এমপির নিক্সন চৌধুরীর নিকট হতে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে চারুবালা বলেন আমাকে যারা খুজে বের করে মাথা গোজার ঠাই করে দিয়েছেন ইশ্বর তাদের মঙ্গল করুক।#







মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ