একাধীক প্রেম করায় প্রেমিকাকে হত্যা করে প্রেমিক





প্রতিবেদক, টাইমসবাংলা.নেটঃ

একাধীক ছেলের সাথে প্রেম করার সন্দেহে প্রেমিকা মুশফিরাত জাহান নিঝুমকে (১৯) কৌশলে ডেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ পুকুরে ফেলে রেখেছিল প্রেমিক জুয়েল রানা (২১)। শুক্রবার দুপরে নীলফামারী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবাববন্দি দিয়েছে প্রেমিক জুয়েল। এরপর আদালত তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন।

এদিন বিকেলে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হারুন অর রশিদ ও মামলার তদন্ত কর্মকতা এসআই আব্দুল আজিজ প্রেস ব্রিফিং করেন।

মুশফিরাত জাহান নিঝুম নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মধ্য রাজীব ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামের গোলাম মর্তুজার মেয়ে। সে নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল। অপর দিকে হত্যাকারী সোহেল রানা একই উপজেলার মধ্যরাজিব গ্রামের চ্যাংমারী গ্রামের আনছার আলীর ছেলে।

প্রেস ব্রিফিং এ জানানো হয়, গত সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে খবর পাওয়া যায় মুশফিরাত জাহান নিঝুমের মৃত দেহ তার বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে আছে। কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ মেয়েটির বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুরতহাল প্রস্তুত পূর্বক মৃতদেহ উদ্ধার করে জেলার মর্গে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। পরের দিন মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের পক্ষে দাফন করা হয়। পুলিশের প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল এটি হত্যা।

মেয়ের বাবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা দায়েরের পর নিঝুমের কথিত প্রেমিক জুয়েল রানাকে রাত দেড়টার দিকে তার নিজবাড়ি হতে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা নিঝুমকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে জানায়, ২০১৭/২০১৮ সালে নিঝুমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের সম্পর্ক থাকা অবস্থায় নিঝুম তৌফিক নামে তার এক বন্ধুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর ২৬ জুলাই রাত দেড়টার দিকে নিঝুম তাদের বসতবাড়ীর পূর্ব পার্শ্বের সুপারি বাগানে জুয়েলের সাথে দেখা করতে যায়। এ সময় জুয়েল তৌফিকের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করে এবং তৌফিকের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে নিঝুমকে চাপ দেয়। নিঝুম তার কথায় রাজি না হয়ে জুয়েলের গালে চড় মারে। এতে জুয়েল ক্ষিপ্ত হয়ে নিঝুমের গলা চেপে ধরে হত্যা করে সুপারি বাগান সংলগ্ন পুকুরে ফেলে নিঃশব্দে চলে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল রানা তার প্রেমিকা মুশফিরাত জাহান নিঝুমকে হত্যার বিষয়টি তুলে ধরে। এরপর তাকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-০৪ এ নেওয়া হয়। সেখানে সে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।







মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ