ফরিদপুরের বৈকন্ঠপুর বাওড় প্রভাবশালীদের দখলে, রাজস্ব বঞ্চিত সরকার





প্রতিবেদক, টাইমসবাংলা.নেটঃ
ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার চারটি গ্রামের মাঝে প্রায় ৪২ একর জায়গা জুড়ে অবস্থান বৈকন্ঠপুর বাওড়ের। ওই বাওড়ের দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সাথে উত্তেজনা চলছে দখলকারীদের। যে কোনো সময় সংঘর্ষেরও শংকা প্রকাশ করছেন তারা।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে থেকে বিভিন্ন সময়ে মৎসজীবিদের নামে ইজারা দেয়া হয়েছে, যার সুবিধা ভোগ করতেন বাওড় পাড়ের মানুষ, অপরদিকে সরকার পেতো রাজস্ব। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বাওড়টি লিজ না দেয়া হলেও মধুখালী বাজারের ও স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বাওড়টি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবী গ্রামের কোনো বাসিন্দা ওই বাওড়ে মাছ ধরাতো দুরের কথা পানি আনতে গেলেও হামলার শিকার হতে হয়।

স্থানীয়রা জানায়, পুরান মধুখালী মৌজায় অবস্থিত বাওড়টি খোদাবাঁশপুর, ঘোষকান্দি, পুরান মধুখালী ও বৈকুন্ঠপুর গ্রামের মাঝে ৪২ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে। সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক এককালীন টাকা দিয়ে সরকারের কাছ থেকে এই বাওড় লিজ নিয়ে মাছ চাষ করতো স্থানীয়রা। একই সাথে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরাসহ বাওড়ের পানি ব্যবহারের সুযোগ পেত চারগ্রামসহ আশেপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ।

স্থানীয়দের দাবী, কয়েক বছর আগে মধুখালী বাজার ব্যাবসায়ী নেতা মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলন তার অনুসারীদের নিয়ে নাম মাত্র একটি মৎসজীবি সমিতি গঠন করে বাওড়টি দখলে নেয়। এতে স্থানীয়দের সাথে বিরোধ বাড়তে থাকে।

এলাকবাসীর অভিযোগ, বাওড়ের পানিও তারা কেউ ব্যবহার করতে পারেননা। পানি ব্যবহারের উদ্ধেশ্যে কেউ বিলপাড়ে গেলেও হামলার শিকার হতে হয়। ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি জামাল মৃধা জানান, কিছুদিন আগে আজাউল ও তামিম নামে দুইটি ছেলেকে বাওড়ের পাড় থেকে ধরে নিয়ে যায় মিলনের অনুসারী সন্ত্রাসীরা। এরপরে তাদেও দুই দফা পিটিয়ে মারাত্বক জখম করে ফেলে রেখে যায়। এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানানোর কারনে আমাকে ধরে নিয়ে মিলনের বাড়িতে আটকে মারপিট করে। লোহার রড, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আমার পা থেথলে দেয়। এখনো আমি সোজা হয়ে হাটতে পারি না। এসব ঘটনায় মামলা করেননি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা করলে তো জানেই মেরে ফেলবে, হাসপাতালে চিকিৎসাই নিতে দেয়না। মিলন প্রভাবশালী হওয়ায় কেউই ওদের বিরুদ্ধে কথা বলে না, যে বলে তাকেই ধরে নিয়ে মারপিট করে।

বাওড় পাড়ের বাসিন্দা জুয়েল শরীফ জানান, বাওড়ের পাড়ে আমাদের বাড়ি। কিন্ত বাওড়ের আমরা গোসল পর্যন্ত করতে পারিনা। এই পর্যন্ত মিলন বাহিনী দুইনারীসহ ১২ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে বাওড়ের পাড়ে আসায়। অথচ ৪/৫ বছর আগে মিলন স্থানীয়দের জানিয়েছিল আপনারা সকলেই বাওড়ের দেশী মাছ ধরতে পারবেন। কিন্ত দখলে নেয়ার পর থেকেই তার রুপ পাল্টে যায়। তিনি আরো জানান, বাওড়ের পাড়ে ও মাঝে ছোট ছোট খুপরী ঘর করা হয়েছে, যেখানে মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপের আড্ডা বসে প্রতিনিয়ত।

৮০ বছরের বৃদ্ধ মো. মহিউদ্দিন বলেন, একসময়ে আমার গ্রামবাসী মিলে এই বাওড় লিজ আনতাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে। এখন তো শুনছি লিজ ছাড়াই মিলন বাহিনী বাওড় দখল করে আছে। বাওড়ের পাড় দিয়ে হেটে গেলেও মিলনের সন্ত্রাসীরা মারপিট করে। মো. বাকিয়ার শেখ জানান, বাওড়ের পাড় দিয়ে রাস্তা। রাতে এই রাস্তা দিয়ে টর্চ নিয়ে হেটে গেলেই তাকে পিটায় মিলনের সন্ত্রাসীরা।

এদিকে সব অভিযোগ অস্বিকার করেছেন মির্জা মাজহারুল ইসলাম মিলন। তিনি জানান, এলাকাবাসী সবাই মিলে মাছ ছেড়েছে বিলে, আমি একটি শেয়ারের মালিক মাত্র। আমার সাথে কারো কোনো বিরোধ নেই। আমি বিল থেকে কোনো সুবিধা নেইনি বরং কয়েক লাখ টাকা বিনিযোগ হযে গেছে, যা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছিনা।

অপরদিকে এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তফা মনোয়ার জানান বিলের জায়গা সম্পুর্ণই সরকারের, এটা দখল করে ভোগ করার অধিকার কোনো ব্যাক্তির নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, শিঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। #







মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ