দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তি





প্রতিবেদক, টাইমসবাংলা.নেটঃ
ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান ওরফে রুবেল মানি লন্ডারিং মামলায় দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

দুই দফায় ৫ দিন রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয় আলোচিত এই দুই ভাই। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় আদালতের নির্দেশে রুবেল ও বরকতকে কেরানীগঞ্জ জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে দুই ভায়ের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং এর মামলা করে সিআইডি। সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে গত ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় মানি লন্ডালিং এর অভিযোগ এনে এ মামলাটি দায়ের করেন।

এ মানি লন্ডারিং মামলায় ওই দুই ভায়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধনী ২০১৫ এর ৪(২) ধারায় এ মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলাটি তদন্ত করছেন ঢাকা মেট্রপলিটন সিআইডি(পশ্চিম) এর সহকারি পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উত্তম কুমার বিশ্বাস বলেন, রুবেল ও বরকত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ‘যাদের আশ্রয়, প্রশ্রয়ে থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন’ তাদের সকলের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার রাতে জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালতের নির্দেশে ওই দুই ভাইকে কেরানীগঞ্জ জেলখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরে আবার কোন বিষয় জানার জন্য প্রয়োজন হলে ওই দুই ভাইকে আবার রিমান্ডে আনা হবে।

প্রসঙ্গত, সিআইডি এ মামলায় দুই ভাইয়ের ১০দিনের রিমান্ড আবেদন জানায়। গত ১৩ জুলাই ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে এ রিমান্ড শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় ফরিদপুর কারাগারে থাকা অবস্থায় জেল গেটে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে এ শুনানিতে অংশ নেন সাজ্জাদ ও ইমতিয়াজ। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৯ জুলাই ভোরে সিআইডি দুই ভাইকে ফরিদপুর জেলখানা থেকে তাদের জিম্মায় নেন। তাদের সারাসরি ঢাকার মালিবাগস্থ সিআইডির কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। দুইদিন রিমান্ড শেষে সিআইডি গত ২১ জুলাই পুণরায় ১০দিন করে রিমান্ড চাইলে আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত শুক্রবার তিন দিন রিমান্ড শেষ হওয়ার পর রুবেল ও ররকতকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

উল্লেখ, গত ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আ.লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। সুবল সাহার বাড়ি শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লা বাড়ি সড়কে অবস্থিত। এ ঘটনায় গত ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গত ৭ জুন রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার মামলার আসামী হিসেবে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বরকত ও রুবেলসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করে।#







মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ