হত্যা মামলা থেকে সাংবাদিককে অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন





প্রতিবেদক, টাইমসবাংলা.নেটঃ
পটুয়াখালীর বাউফলে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী তাপস কুমার দাস হত্যা মামলায় দৈনিক প্রথম আলোর বাউফল প্রতিনিধি এবিএম মিজানুর রহমানকে আক্রোশ ও হয়রানিমূলক আসামি করার প্রতিবাদে ও মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতির দাবিতে পটুয়াখালীর দশমিনায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

দশমিনা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও সুধি মহলের উদ্যোগে সোমবার বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে দশমিনা উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্থানীয় সাংবাদিক , রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আধাঘন্টা ব্যপী মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দশমিনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিপন কুমার কর্মকার, সাবেক সভাপতি এইচ এম ফোরকান, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।

বক্তারা তাপস হত্যা মামলায় মিজানকে আক্রোশ ও হয়রানিমূলক আসামি করায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন।

বক্তারা বলেন, ঘটনার সময় অন্যান্য সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন প্রথম আলোর মিজান। যার ভিডিও সাংবাদিক ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে সংরক্ষনে আছে। অথচ ওই হত্যা মামলায় সাংবাদিক মিজানকে আসামি করা হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি স্বরুপ। বক্তারা অবিলম্বে মামলা থেকে সাংবাদিক মিজানকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেন ।

বক্তারা আরও বলেন , এই হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি সাংবাদিক মিজানসহ নিরপরাধ কেউ যেন এই মামলায় হয়রানির শিকার না হন , তা দেখার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি করছি ।

সাংবাদিক মিজান সরকারের প্রভাবশালী মহলের বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় এর আগেও চাঁদাবাজি, ছিনতাই, লুট, মারামারি ও ধর্ষণসহ হয়রানিমূলক ছয়টি মামলায় আসামি করা হয়েছিল। যা সবই মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। এবার তাঁর কলম থামিয়ে দেওয়ার জন্য হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সরকারদলীয় রাজনৈতিক নেতারাও সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য ঈদের আগের দিন ২৪ মে রোববার দুপুরে পটুয়াখালীর বাউফল থানার পূর্ব পাশে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর সামনের সড়কের খালি জায়গায় বাউফল পৌরসভার উদ্যোগে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে করনীয় বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা লেখা সংবলিত ব্যানার স্থাপন করা নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের কর্মী – সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবলীগ কর্মী তাপস কুমার দাস আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতে মারা যান। তাপসের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কালাইয়া গ্রামে ।

এ ঘটনায় ২৫ মে রাতে তাপসের বড় ভাই পঞ্চজ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়মী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক জুয়েল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রাহাত জামশেদসহ ৩৫ জনের নামে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় সাংবাদিক মিজানকে ২০ নম্বর আসামি করা হয়েছে। #







মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ