ফরিদপুরে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী, স্বামী-স্ত্রীসহ আরও ৩৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত





ফরিদপুর প্রতিনিধি, ২০ মেঃ
ফরিদপুরে বুধবার চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বামী-স্ত্রীসহ ২৪ ঘন্টায় আরও ৩৫ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যা স্থানীয় ভাবে আক্রান্তের রেকর্ড।

সোমবার আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকায় অজ্ঞাত এক ব্যাক্তির (৩৭) মৃত্যু হয়। তার শরীরের নমুনা পরীক্ষা করে জানা গেছে তিনি করোনা ভাইরাস জনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বুধবার দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের করোনা ল্যাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ নিয়ে ফরিদপুর জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯৭ জন।

ফরিদপুরে নতুন করে যে ৩৫ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক (৪০), ভাঙ্গায় স্বামী (২৮) ও স্ত্রী (২২), ভাঙ্গায় পাঁচ মাস বয়সী এক শিশু, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী স্বাস্থ্য কর্মী (৩২) রয়েছেন।

আক্রান্তের মধ্যে পাঁচ মাসের শিশু থেকে শুরু করে ৬৫ বছরের বৃদ্ধও রয়েছেন। এর মধ্যে ২০ বছর বয়সী রয়েছে ছয়জন। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রয়েছে ১৮জন। ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে রযেছেন নয় জন। এবং ৬১ বছরের উর্ধে রয়েছেন দুইজন।
নতুন আক্রান্তের মধ্যে আলফাডাঙ্গায় ১২জন, নগরকান্দায় ছয়জন, বোয়ালমারীতে পাঁচজন, ভাঙ্গায় তিনজন এবং ফরিদপুর শহরসহ সদরে নয়জন।

ফরিদপুরে মোট শনাক্ত ৯৭ জনের মধ্যে বোয়ালমারীতে ২৬ জন, নগরকান্দায় ১৯জন, ফরিদপুর সদরে ১৯জন, আলফাডাঙ্গায় ১৭, ভাঙ্গায় ৬, সদরপুরে ৪, চরভদ্রাসনে ৩, মধুখালীতে ২ এবং সালথায় ১ জন।

ফরিদপুরের করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব সূত্রে জানা গেছে মঙ্গলবার ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের মোট ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ফরিদপুরের ১২০ এবং গোপালগঞ্জের ৬৮ জন। মোট পজিটিভ হয়েছে ৪৪ জনের। এর মধ্যে ফরিদপুরে তিনজন পুরনো রোগী রয়েছে। অপরদিকে গোপালগঞ্জে শনাক্ত হয়েছে ৩জনের এবং রাজবাড়ীর ২জনের।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পৌর সদর বাজারের চৌরাস্তায় ভূমি অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে অজ্ঞাত (৩৭) একজ ব্যাক্তির লাশটি উদ্ধার করা হয়। মৃত ওই ব্যাক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করায়। পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর ল্যব থেকে যে ৪৪জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে ওই মৃত ব্যাক্তিটিও রয়েছেন।

ওই মৃত ব্যাক্তিকে ধরে আজ পর্যন্ত ফরিদপুরে করোনাভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট দুইজনের মৃত্যু হলো। অপরজন হলেন বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বাসিন্দা এক মুক্তিযোদ্ধা (৮০)। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় মার্যাদা তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ফরিদপুর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে যে ৩৫ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বাড়ি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আক্রান্ত সকলের শারীরিক অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। শানাক্তদের বাড়িতে রেখে কিংবা শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ফরিদপুরের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে স্থনান্তর করা হবে।#







মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ