করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে বেশিকিছু করতে পারবে না!





প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম. কামালঃ

১। করোনা ৭০ডিগ্রি তাপের নিচে মারা না গেলেও আমাদের যে বর্তমান আবহাওয়া তাতে সর্দি, থুথু, কফ, কাশি মাটিতে বা যেখানেই লাগবে দ্রুত শুকিয়ে যাবে। তাই করোনা নিজেকে ছড়ানোর সুযোগ কম পাবে।

২। বর্তমানে যে তাপমাত্রা তা বেশি না হলেও অধিক আক্রান্ত দেশগুলির তুলনায় তা সমান বা বেশি এবং এখানকার বায়ু শুষ্ক। (যেমন স্পেনের আজকের তাপমাত্রা ৭ডিগ্রি, হিউমিডিটি ৭৯%, অন্যদিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি ও হিউমিডিটি ৪৪%।) আমরা জানি যে বায়ুর উপাদান তাপে উপরের দিকে উঠে যায়। বর্তমান তাপ বায়ুর উপাদানকে একটি নির্দিষ্ট উপড়ে তুলে নিতে সক্ষম। ফলে ভূপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ কম। আরও আশার কথা হলো, এপ্রিলের মাঝামাঝি তাপ অনেক বেড়ে যাবে। তখন বায়ুর চাপ আরও কমবে। বায়ুর উপাদান উপড়ে উঠে গেলে কোন পড়ন্ত বস্তুর ভূপৃষ্ঠে পড়তে সময় কম লাগবে। হিউওমিডিটি বেশি হলে জীবাণু নড়াচড়া করতে বাঁধা আসে। বোরো চাষের ফলে সেই হিউমিডিটিও আমাদের এখানে বাড়ছে। তার মানে হলো করোনা-জীবাণু ও তা বহনকারী থুথু, সর্দি, কফ, কাশি দ্রুত সময়ে মাটির সংস্পর্শে আসবে। মানে ভাসমান থাকবে কম সময় ধরে। তাই আমাদের আবহাওয়া জীবাণু ছড়ানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসাবে কাজ করবে।

৩। বর্তমান যে আবহাওয়া তাতে এসি ছাড়ার প্রয়োজন হয় না। বাসা, অফিস, দোকান এসি ছাড়া চলছে। আবার নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় দরজা জানালা সব খুলা থাকছে। এতে করে জীবাণু বেঁচে থাকার সুযোগ পাচ্ছে কম। আবদ্ধ কক্ষে সময় ধরে ভাসার সুযোগ পাচ্ছে না।

৪। বাতাসে ধুলা বালি বেশি। একটি হাঁচির ফলে সৃষ্ট সর্দি বা থুথুর কণা ধুলো-বালির সংস্পর্শে এসে তা আরও ভারী হচ্ছে। সে জন্য ভূপৃষ্ঠে পতনও হচ্ছে দ্রুত।

৫। এ সিজনে মানুষ হালকা পাতলা জামা কাপড় পড়ে। ভারী, ছিদ্রযুক্ত এবং প্যাঁচানো কাপড় পড়তে হয়না। তাই জীবাণুর পক্ষে এসব জামা কাপড়ে জড়িয়ে থাকার সুযোগ শীতের পোশাকের চেয়ে কম।

৬। এই সিজনে প্রচুর টমেটো পাওয়া যায়। যা মানুষ এমনিতেই খায়। টমেটো করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি যোগায়।

৭। বাংলাদেশের শহরের মানুষ উঁচু ভবনে বাস করে আবার অফিসও করে। ফলে নিয়মিত সিঁড়ি ভাংতে হয়। তারা অনেক পরিশ্রমের কাজ করে। তাই তাদের হার্ট এবং ফুসফুস ভাল থাকে, তারা লম্বা নিঃশ্বাস নিতে সক্ষম। মানে কষ্টে সার্ভাইব করার শক্তি তাদের বেশি যা করোনার আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে রসদ যোগাবে। দুর্বল যুক্তি হলেও কম-বেশি তা কাজে দিবে।

৮। বাংলাদেশের যে সংস্কৃতি তাতে ছেলে-মেয়ের অবাধ মেলামেশা নেই। ফলে পুরুষেরা এমনিতেই নারীর কাছ হতে দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলে। আর পুরুষে পুরুষে গালে গাল লাগিয়ে কথা বলার কিছু নেই। ফলে শুধু আলাপচারিতার প্রয়োজনে মানুষ স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে। যা করোনা বিস্তার সহায়ক নয়।

৯। বাংলাদেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা গ্রামে বেশি। এখন পর্যন্ত যা তথ্য তাতে সকল দেশেই রোগটি ছড়িয়েছে কম।

১০। স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়েছে।

১১। যতই নিজেদের গালি দেই না কেন, আমরা এখন অনেকেই মাস্ক পড়ি, করোনা বিষয়ে বিস্তারিত জানি। কিন্তু আক্রান্ত দেশগুলি এত জানার মতো সময় পায়নি।

১২। আমাদের দক্ষ আর্মি বাহিনী রাস্তায় আছে। ডাক্তাররা তাদের সেফটি উপকরণ পেয়ে যাচ্ছে। গবেষণা দেশিয় পর্যায়েও চলছে। তাই বলি, আপাতত ক’দিন ঘুমাও বাংলাদেশ।

লেখকঃ কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। (লেখাটি যমুনা টেলিভিশনের ময়মনসিংহ ব্যুারো চীফ হোসাইন শাহীদ এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া।)



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ