‘মানসম্মত শিক্ষা’ বাস্তবায়নে বোয়ালমারী ইউএনও’র নানা উদ্যোগ





টাইমসবাংলা.নেটঃ
একজন নির্বাহী কর্মকর্তার প্রচেষ্টায় বদলে যাচেছ বোয়ালমারী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র। ইতিমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে কমল মতি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশা পাশি রোধ হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ার হার।
ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে গুনগত পরিবর্তন সাধন করে সকল মহলে নজর কেড়েছে।

সরকারি এই কর্মকর্তা বোয়ালমারীতে যোগদানের পরপরই সকল সুধীজন ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে গ্রহণ করেন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

এর অংশ হিসেবে শিক্ষকদের মাসিক সভায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে তাদের কার্যক্রম, ইনোভেশন ও শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তিনি উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ও বিভিন্ন সাব-ক্লাস্টারে আয়োজিত পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্সে শিক্ষকদের পারদর্শিতা ও সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত মনিটরিং শুরু করছেন।
এছাড়াও আকস্মিক স্কুল পরিদর্শন করে ছাত্র-শিক্ষক উপস্থিতির হার পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে যুগপযোগী পাঠদানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধকল্পে বিভিন্ন ইউনিয়নে উঠান বৈঠকের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এছাড়া ইউএনও’র ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিভিন্ন স্কুলের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, শিক্ষা উপকরণ, টিফিন বক্স বিতরণ করছেন।

ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে আইসিটির দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য করছেন কর্মশালা।

বোয়ালমারী উপজেলায় প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার আয়োজন করা হয় ‘মিট দ্যা ইউএনও’ প্রোগ্রাম। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেরা শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাক্ষাৎ করে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। এ আয়োজনে ভবিষ্যতে পরিকল্পনা গ্রহণ ও সুন্দর জীবন গঠনে সহায়ক বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়।

এছাড়াও ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পঠন ও লিখন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সুন্দর হাতের লেখা, ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’ ও সাবলীলভাবে পঠন দক্ষতা যাচাই প্রতিযোগিতা ব্যবস্থা নিয়েছে। এসকল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীল ও সুন্দর হাতের লেখা, শব্দ ও বাক্যের গঠন এবং ভাষা প্রয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি, পাঠ্যপুস্তক ব্যতীত সমশ্রেণির অন্যান্য বই, ম্যাগাজিন ও পত্রিকা লেখার অভ্যাস বৃদ্ধি পায়।

বোয়ালমারী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে ‘দর্পণ’ নামক স্মরণিকা।

সার্বিক কর্মকান্ড ও মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে সম্প্রতি জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা পদক কমিটি ঝোটন চন্দকে ফরিদপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বোয়ালমারীর শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, সরকারি এই কর্মকর্তার শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় নয় ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পোশাক বিতরণ করে থাকেন। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে পার্ক স্থাপন, ফুটবল, ক্যারম বোর্ডসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, ক্লাস্টার অনুযায়ী বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে পুরস্কার ও ক্রেস্ট বিতরণ করছেন।

তিনি বলেন, এ উপজেলায় শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘উদয়ন’ নামক স্মরনিকা। আর এসবই করা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও অর্থায়নে।

ইউএনও ঝোটন চন্দ বলেন “এসকল গৃহীত উদ্যোগ ও এর সফল বাস্তবায়ন এসডিজি’র ৪ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা, ‘মানসম্মত শিক্ষা’, ও পরোক্ষভাবে অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করছে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ইউএনও’র অবদান নিয়ে ফরিদপুর এর জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতুল সরকার বলেন, বোয়ালমারী নির্বাহী কর্মকর্তা উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, তার ওই সকল কার্যক্রম চলতে থাকলে শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটবে।



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ