লাভার নিচে ঢাকা পড়েছিল যে শহর





ডেক্স রিপোর্ট, টাইমসবাংলা.নেটঃ
ভিসুভিয়াস বললেই সেই হলিউডের ছবি- দ্য লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই। অথচ দু’হাজার বছর আগে রোমানদের জীবন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য নেপলসের কাছে হারকুলেনিয়ামে গেলেই চলে।

ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির পাদদেশে নেপলস শহর। ভিসুভিয়াস নেপলসের প্রেক্ষাপট, আবার এক অকল্পনীয় বিপদের প্রতীক। ভিসুভিয়াসের শেষ বিস্ফোরণ ঘটেছিল ৭২ বছর আগে। তবে নেপলসের মানুষ জানেন, বিপদের সঙ্গে কিভাবে ঘর করতে হয়।

নেপলস শহরের প্রাচীন অংশটা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড কালচারাল হেরিটেজ। যে কারণে বছরে দশ লাখ পর্যটক এখানে আসেন। বিশেষ করে মিউজিয়ামগুলো টুরিস্টদের টানে, যেমন মিউজিও দি কাপোদিমন্তে, যেখানে মধ্যযুগ থেকে রেনেসাঁস পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পকর্ম রাখা আছে।

তবে এই এলাকার ইতিহাস আরও ভালোভাবে বুঝতে গেলে যেতে হবে হারকুলেনিয়ামে। এটি ভিসুভিয়াসের কোপে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি শহর। নেপলস থেকে ট্রেনে আধঘণ্টার পথ।

খ্রিস্টজন্মের ৭৯ বছর পরে ভিসুভিয়াসের একটি বিস্ফোরণে শহরটি চাপা পড়ে- আর ঠিক সেই কারণেই আগামী প্রজন্মের জন্য এটি সংরক্ষিত করা হয়েছে। এখানে রোমক আমলের অনেক বাড়ি দেখা যায়, যেগুলো তিনতলা পর্যন্ত এখনও অক্ষত অবস্থায় আছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, কাঠের জানালা-দরজার কপাট পর্যন্ত আগের অবস্থায় রয়েছে। যার ফলে দু’হাজার বছর আগের জীবনযাত্রা সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা পাওয়া যায়।

দ্য লাস্ট ডেজ অফ পম্পেই খ্যাত পম্পেই শহরের বহু বাড়ি আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ধ্বংস হয়েছিল। কিন্তু হারকুলেনিয়াম পুরোপুরি ঢাকা পড়েছিল লাভায় নিচে। যে কারণে এখানকার বহু মোজাইক আর ফ্রেস্কো প্রায় দু’হাজার বছর পরও ঠিক আগের মতোই আছে।

রোমানদের জীবনযাত্রা আরও ভালোভাবে বোঝা যায় এই হারকুলেনিয়ামে। এখানে প্রাসাদোপম বাড়িগুলোর দেয়ালে মোজাইক আর দেয়ালচিত্র দেখতে পাওয়া যায়। দেখা যায় ধনী-দরিদ্র কিভাবে পাশাপাশি বাস করেছেন।

নগরীর দোকানগুলোতে সবাই কেনাকাটা করতে আসতেন। দোকানিরা এখানে শুধু মদ নয়, খাদ্যশস্যও বেচতেন- যার অবশিষ্ট এখনও সংরক্ষিত আছে। এখানে খাবার কিনতে পাওয়া যেত, আবার দোকানে বসে খাওয়াও যেত।

ভিসুভিয়াসের বিস্ফোরণের আগে হারকুলেনিয়াম কিরকম দেখতে ছিল, তা দেখা যায় এখানে অবস্থিত ভার্চুয়াল আর্কিওলজিকাল মিউজিয়ামে।

ত্রিমাত্রিক প্যানোরামা ফিল্মে অতীতের সেই বিপর্যয় যেন আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে। মিউজিয়ামের কর্তৃপক্ষের কাছে এই মিউজিয়াম একটা এক্সপেরিমেন্ট- একটা সফল এক্সপেরিমেন্ট। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে হারকুলেনিয়ামের প্রতœতাত্ত্বিক ঐশ্বর্য তুলে ধরার একটা সহজ-সরল পথ।

নেপলসের সান গ্রেগোরিও আর্মেনো গলিতে খ্রিস্টীয় ‘ম্যাঞ্জার’, অর্থাৎ যে গোয়ালঘরে খ্রিস্টের জন্ম হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত নানা মূর্তি ও পুতুল বিক্রি হয় সারা বছর ধরেই। এগুলো কাজে লাগে বড়দিনের সময়।






মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ