হসপিটালনামা…





ডা. ইশতিয়াক আহমেদঃ
১৬/০১/১৯
সকাল ১০.০০টা।।।
আমাদের ইউনিটের এডমিশন চলছে…

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স পড়ুয়া এক তরুনী অজ্ঞান হয়ে ভর্তি হয়ে আসলেন আমাদের ওয়ার্ডে। তার ছোট বোনের ভাষ্য মতে তার পুরানো ছেলে বন্ধু ও নতুন ছেলেবন্ধুর হাতাহাতির খবর শুনে মুর্ছা যান সঙ্গে সঙ্গে এবং “ইস্টক” করেছেন তিনি…..

বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তির আদরের দুলালী তিনি, কেননা তার হাসপাতালে আসতে দেরী,পরিচালক মহোদয়ের ফোন আসতে দেরী নাই দেখে আন্দাজ করলাম……

যাই হোক, তাকে রিসিভ করতে গেলাম, দূর থেকেই দেখলাম চোখ পিটপিট করছেন তিনি, বুঝার উপায় নাই ভং ধরেছেন তিনি যা আমরা মেডিকেলীয় ভাষায় HCR হিসেবে বলে থাকি। আর মহিলা ওয়ার্ডে এনাদের মত রোগীর সংখ্যাটাও প্রকট…..

তাও আমি পুরো হিস্ট্রি একজামিনেশন করে জোরে জোরে বললাম…” রোগীর কনডিশন খুব খারাপ,,এক্ষুনি নাক দিয়ে পেটের ভেতর নল দিতে হবে…..”

বলতে না বলতে আমার অজ্ঞান রোগী উঠে বসলেন এবং তিনি এখন ভালো বোধ করছেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করলেন…

ফাইলটা ক্লোজ করার সময় হঠাত বয়সের ঘরে চোখ পড়লো…অর্নাস পড়ুয়া তরুনীর বয়স ১৩ বছর লিখিয়েছেন তিনি…..

আমি যেতে যেতে বললাম “কি দরকার ছিলো এত বাড়িয়ে ১৩ বলার, আরেক বছর কমিয়ে দিতেন, তাহলেতো শিশু বিভাগেই ভর্তি নিত…”🙊🙉🙈😂😂😂

আমি আরেক রোগী রিসিভে মনোনিবেশ করিলাম…আমার অজ্ঞান তরুনী রোগী নিজ পায়ে হনহন করিয়া হাটিয়ে হাসপাতাল হইতে প্রস্থান করিলেন…

লেখকঃ ইন্টার্নি চিকিৎসক, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ