প্রেমের সমাধিঃ ঝড়ে গেল মেধাবী ২ তরুন-তরুনীর জীবন





প্রতিবেদক, টাইমসবাংলা.নেটঃ
প্রেমিকার সাথে অভিমান করে আত্মহত্যা করেন প্রেমিক। প্রেমিকের আত্মহত্যার দেড় মাসের ব্যবধানে শোক সইতে না পেরে এবার আত্মহত্যা করলেন প্রেমিকা। মান-অভিমানে ঝরে গেল মেধাবী দুটি মুখ। তাদের এই অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে একটি প্রেমের করুণ সমাপ্তি ঘটলো। পাশাপাশি তাদের এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার দুটিকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে স্বজন হারানোর বেদনা।

জানা যায়, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের মনোহরদিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সুপ্রিয়া দাস নামের এক বিশ^বিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রী। সুপ্রিয়া দাস বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গণিত বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত শনিবার (০১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি আত্মহত্যা করেন।

প্রেমিক কুয়েট শিক্ষার্থী তপু মজুমদারের আত্মহত্যার ঘটনার দেড় মাসের ব্যবধানে আত্মহত্যা করেন সুপ্রিয়া দাস। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এ ঘরনের ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ সেল গঠনের দাবি উঠেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

সুপ্রিয়া দাসের সহপাঠীরা জানান, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের বাসিন্দা কুয়েটের শিক্ষার্থী তপু মজুমদারের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় থেকে সুপ্রিয়া দাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দু’জনের গ্রামের বাড়ী একই উপজেলায়। উভয় পরিবার মেনে নিয়েছিল দু’জনের সম্পর্ক। করোনার মধ্যেও সুপ্রিয়ার বাসায় এসেছিল তপু মজুমদার।

গত ১৪ জুন রাতে মুঠোফোনে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে সুপ্রিয়া কান্নাকাটি করে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে সুপ্রিয়া ঘুম থেকে উঠে তপুর আত্মহত্যার কথা জানতে পারেন। এরপর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়নে সুপ্রিয়া। তপুর আত্মহত্যার ঘটনায় সামাজিকভাবে তাকে দোষারোপসহ নানাভাবে বিদ্রুপের শিকার হয় সে। সামাজিক মানসিক চাপে সুপ্রিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করছেন তার কাছের বন্ধুরা।



সুপ্রিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, তপুর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে সুপ্রিয়া। বাড়িতে থাকা অবস্থায় সবাই সুপ্রিয়াকে চোখে চোখে রাখত। তপুর মৃত্যুর প্রায় দেড় মাস পার হয়ে যাওয়ায় সবাই ভেবেছিল সুপ্রিয়া স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ঘটনার দিন সবাই বাড়ীর বাইরে গেলে এই সুযোগে সুপ্রিয়া ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে দড়ি ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করে। এক ভাই, এক বোনের মধ্যে সুপ্রিয়া বড় ছিল। তপুর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরেই সুপ্রিয়া আত্মহত্যা করেছে।

তপুর পরিবারের সদস্যরা জানান, ওদের দু’জনের সম্পর্কের কথা আমরা উভয় পরিবারই জানতাম। এ সম্পর্কে আমাদের কোনো অভিযোগ ছিলনা। আমরা মেনে নিয়েছিলাম। হঠাৎ করে তপুর সাথে সুপ্রিয়ার সামান্য মান-অভিমান হয়। মান-অভিমানের কারনেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তপু। বড় অভিমানী ছিল তপু। সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতে অভিমান করে চলে গেল তপু। সন্তান হারানোর বেদনা সইবো কেমন করে আমরা। তপু দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ছিল।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাশ বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সুপ্রিয়া দাস মধুখালী উপজেলার মনোহরদিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিল। সেখানে গত শনিবার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সুপ্রিয়া। খবর পাওয়ার পর মুঠোফোনে তার পরিবারের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেছে। একজন মেধাবী ছাত্রীর অকালে ঝরে পড়া খুবই মর্মান্তিক।

এদিকে সুপ্রিয়া দাসের মৃত্যুতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ গভীরভাবে শোকাহত। গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান চিন্ময়ী পোদ্দার সাক্ষরিত এক শোক বার্তায় সুপ্রিয়া দাসের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। একইসাথে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।

এদিকে সুপ্রিয়ার অকাল মৃত্যুতে শোকার্ত সহপাঠী ও শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ সেল গঠনের দাবি তুলেছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ে মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ সেল গঠন জরুরি বলে মনে করেন তিনি।#







মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গনমাধ্যম

স্বাস্থ্য

বিশেষ সংবাদ

কৃষি ও খাদ্য

আইন ও অপরাধ

ঘোষনাঃ